• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি পুরোনো আইন দিয়ে নতুন অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে জোর বিসিসিসিআই’র শহীদ ২ সেনা সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের শতকোটির দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে ড্রাইভার সাখাওয়াতের রাজকীয় অবসর: নেপথ্যে কারা? নীরব ফায়ার সার্ভিস ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত প্ল্যান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক

শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দুদকের রহস্যজনক দায়মুক্তি “নেপথ্যে লেনদেনের অভিযোগ” পর্ব- ১

নিজস্ব প্রতিবেদক; / ১৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একসময় অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও কালোটাকা সাদা করার গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় আসা এনভয় টেক্সটাইল ও শেলটেক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তার ছেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এখন রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বহুল আলোচিত সেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিটের কিছু সাংবাদিক যোগসাজশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের একাধিক সূত্রের দাবি, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং আবাসন খাতে কালোটাকা বৈধ করার মতো অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধানের কথা থাকলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তদন্তের গতি থেমে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান মমিনের সময়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী একটি চক্রের সমন্বয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ পরিবারকে কার্যত অব্যাহতি দেওয়া হয়। এনবিআর এর কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এক সময় ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ গত দেড় দশকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান। কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের মালিকানাধীন শেলটেক, এনভয় টেক্সটাইল, সিরামিক ও আবাসনসহ ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উত্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার করে একাধিক দেশে অংশীদারিত্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে সূত্র জানান।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর গুলশান, বারিধারা ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ ফ্ল্যাট ও ফ্লোর স্পেস বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্য দেখিয়ে দলিল সম্পন্ন করতেন। এতে একদিকে বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হতো, অন্যদিকে অপ্রদর্শিত অর্থ সহজেই বৈধ করার সুযোগ তৈরি হতো। অভিযোগ রয়েছে, শেলটেকের লিগ্যাল ও মার্কেটিং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ক্রেতাদের এ ধরনের আর্থিক “ম্যানেজমেন্ট” কৌশল শিখিয়ে দিতেন।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরও বলা হয়, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং অপ্রদর্শিত আয়ের মালিকদের জন্য এক ধরনের “নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম” ছিল। বিপুল অঙ্কের কালোটাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা গোষ্ঠীর অধিকাংশ তাদের লুটপাটের অর্থ শেলটেক গ্রুপের বিভিন্ন স্থাপনায় অধিক দামে কিনে তাদের কালো টাকা লগ্নি করেছেন।

একাধিক সুত্র জানায়, রাজধানীর একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের এক চিকিৎসক কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের গুলশানের লেকপাড়ের একটি বহুতল ভবনে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনলেও রেজিস্ট্রেশনে দেখানো হয় মাত্র সাড়ে ৪ কোটি টাকা। বাকি অর্থ অপ্রদর্শিত থাকলেও সেটি কার্যত বৈধ হয়ে যায়। ভূমি খাতে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তাদের প্রায় প্রতিটি লেনদেনে এভাবেই সরকারী রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা রয়েছে। তারপর বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। অনুসন্ধান সূত্রে দাবি করা হয়, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের পর্তুগাল ও দুবাইয়ে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিনিয়োগ রয়েছে। দুবাইয়ে বিনিয়োগ দেখিয়ে তিনি গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের জন্য একটি হুন্ডি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও ছিল কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে।

তবে এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও দুদকের তদন্ত কার্যক্রম হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এখন নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তদন্তের একপর্যায়ে প্রভাবশালী মহলের চাপ, দুদকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সুবিধাভোগী সাংবাদিকের যোগসাজশে পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়। এই অভিযোগ হতে তদন্ত থামিয়ে দিয়ে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় মোটা অংকের অর্থ নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঘটেছে বলে জোর অভিযোগ উঠেছে। রহস্যজনকভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তি দেখিয়ে কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ পরিবারকে কার্যত অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দুদকের ভেতরের একটি সূত্রের ভাষ্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য-উপাত্ত ও আর্থিক লেনদেনের নথি সামনে এসেছিল, সেগুলো অনুসরণ করলে দেশের আবাসন খাতে কালোটাকা বৈধকরণ ও বিদেশে অর্থ পাচারের বড় একটি চিত্র বেরিয়ে আসতে পারত। কিন্তু সেই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সুশীল সমাজ ও দুর্নীতিবিরোধী সংশ্লিষ্টদের দাবি, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে অতীতের সেই অনুসন্ধান কেন থেমে গেল, কারা তদন্তকে প্রভাবিত করেছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেটিও প্রকাশ্যে আনা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

শেলটেক গ্রুপের কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদকে দুদকের রহস্যজনক অব্যাহতি সমন্ধে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, আসলে অভিযোগটি একজন মৃত্যু ব্যক্তির নামে করা হয়েছিল বিধায় অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার অনিচ্ছুক শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগকারী যে হোক না কেন কাঁচের মতো পরিষ্কার বিষয়টিকে সামান্য অভিযোগকারী দোহাই দিয়ে থামিয়ে দেয়াটা অযৌক্তিক। তিনি আরো বলেন, দুদক সদর দপ্তরে এই তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন সহকারী পরিচালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। এ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক নথি সংবাদমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ, তার স্ত্রী রাশিদা আহমেদ, ছেলে তানভীর আহমেদ এবং মেয়ে সুমাইয়া আহমেদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অ্যাকাউন্টের বিবরণ তলব করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত বছর ২১ এপ্রিল ২০২৫ এর মধ্যে অনুরোধকৃত তথ্য জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category