নিজস্ব প্রতিবেদক |
বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার এবং অফিস মুন্সীর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার, জালিয়াতি ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ফায়ার কর্মীদের নীরবতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে এ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।
সূত্র জানায়, বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা একটি পুরাতন জাপানি নিশান গাড়ি, যা ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ‘কনডেমড’ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিলে চুপিসারে কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। গাড়িটির কেবল ডিফারেনশিয়াল অংশ ছাড়া কার্যকর কিছুই ছিল না।
অভিযোগ আছে, সরকারি ডুবুরি কলের গাড়িটি স্টেশন অফিসার ব্যক্তিগত কাজে নিয়মিত ব্যবহার করেন। কোনো কর্মী মুখ খুলতে সাহস পান না, কারণ তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার দাবি করেন। দাপ্তরিক খাতা-কলমেও এই প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্টেশনটিতে বর্তমানে ২৫-২৬টি ব্যাটারি রয়েছে, যেগুলো এক-দুই বছরের মধ্যে একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের পর প্রক্রিয়া অনুসারে ব্যাটারিগুলো ডিপার্টমেন্টে বুঝিয়ে না দিয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে স্টেশন অফিসারের নিজ বাসার গৃহকর্মী হিসেবে। এতে সরকারি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার চরম অবমাননা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল নদীর ‘অগ্নি যোদ্ধা’ নামে একটি ফায়ার জাহাজকে ঘিরে। জাহাজটিতে দুটি অগ্নিনির্বাপণ পাম্প থাকলেও একটির কার্যক্রম মাত্র ৮ ঘণ্টা এবং অন্যটির ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও, দাপ্তরিক রিপোর্টে সেগুলো হাজার ঘণ্টার বেশি চলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই জাহাজে থাকা একটি জেনারেটর মিটারে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ১৪৫ ঘণ্টা চালু ছিল, অথচ কাগজে কলমে তা ১৫০০ ঘণ্টার বেশি দেখানো হয়েছে।
এইসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে স্টেশন অফিসার এবং অফিস মুন্সী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে দাবি করছেন ফায়ার সার্ভিসের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র। তেল, ব্যাটারি এবং যন্ত্রপাতির অপব্যবহার প্রশাসনিকভাবে নিয়মিত হলেও, মামলার আশঙ্কায় ড্রাইভার ও কর্মীরা মুখ খুলছেন না।
জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিবেদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চলবে….