বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক দলিল রেজিস্ট্রি করানো এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাত্র ছত্রিশ টাকার কর্মচারী হয়েও মাহবুব আলমের দাপট সাব-রেজিস্টারের চেয়েও বেশি। তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্টারদেরও মিথ্যা তথ্য দিয়ে দলিল সম্পন্ন করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এভাবেই রাজস্ব ফাঁকির মহাউৎসবের মাধ্যমে নকল নবীশ মাহাবুব আলম রাজধানী সহ নিজ এলাকায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সম্প্রতি ৮৩৬৯/২০২৫ ও ৮৪৬৫/২০২৫ নম্বর বায়না দলিলের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া কোবলা দলিল নম্বর ৩৪৫৯ (তারিখ: ৩ মে ২০২৬) নিয়ে গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। দাতা নাজিম উদ্দিন গং, পিতা মোঃ বছর মিয়া, প্রায় ১০.৬৬ কাঠা জমি হস্তান্তর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে জমিটি বসতভিটা হলেও দলিলে তা ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানো হয়, যাতে প্রায় তিনগুণ অর্থ কম উল্লেখ করে। ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নকল নবীশ এবং সাব-রেজিস্টারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এমন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এই নকল নবীশ এর হাত ধরে।
এদিকে, আইন মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক ঘটনায় মাহবুব আলম তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন, শারীরিকভাবে আক্রমণের হুমকি দেন এবং জোর করে আসন ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাহবুব আলম প্রায়ই অফিসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করেন, যার ফলে দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এমনকি তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক দলিল রেজিস্ট্রি করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার নির্দেশনা অমান্য করলে মিথ্যা মামলার হুমকিও দেওয়া হয়।
এছাড়া, দেশের বিভিন্ন থানায় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা একটি মামলার কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টরা।
আরও বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে….