নিজস্ব প্রতিবেদক |
কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগে বাস্তবায়নাধীন একাধিক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী এবং সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ রায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ কাগজপত্র ও সরকারি নথিতে উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহারের তথ্য দেখানো হচ্ছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরুর আগেই বিল অনুমোদন এবং আংশিক অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, প্রকৌশলীদের সম্মতি ছাড়া কোনো বিলই পাস হয় না। ফলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বারবার সুবিধা নিচ্ছে এবং একই ঠিকাদারকে একাধিক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রকল্প এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও কাগজে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় নিম্নমানের অবকাঠামো ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ শোনা গেলেও কার্যকর কোনো তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ অডিট করা হোক। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নিয়মিত অডিট না হলে অনিয়ম আরও বাড়বে এবং প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী ও সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের অভিমত, দেরি না করে অবিলম্বে প্রকল্পগুলোর নিরপেক্ষ অডিট ও তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের এই অভিযোগ ও বিতর্ক সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে জনগণের আস্থা ফেরাতে।