• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি পুরোনো আইন দিয়ে নতুন অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে জোর বিসিসিসিআই’র শহীদ ২ সেনা সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের শতকোটির দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে ড্রাইভার সাখাওয়াতের রাজকীয় অবসর: নেপথ্যে কারা? নীরব ফায়ার সার্ভিস ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত প্ল্যান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক

গণপূর্তে প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে ঘিরে দুর্নীতি ও কমিশন সিন্ডিকেট সক্রিয় 

Reporter Name / ২৯১ Time View
Update : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা থাকলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ভিন্ন এক বাস্তবতার অভিযোগ উঠছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় তিনি দুর্নীতির এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন—এমন অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে দপ্তরের ভেতরে ও ঠিকাদার মহলে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কমিশনভিত্তিক এক অঘোষিত নিয়ম। ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়। কখনও ১০ শতাংশ, আবার কখনও ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই দপ্তরের ভেতরে তাকে অনেকে আড়ালে ‘মিস্টার ১৫%’ নামেই ডাকেন।

অভিযোগ আছে, ঘুষ ও কমিশননির্ভর একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের কৌশল তৈরি করেছেন তিনি। ঠিকাদারদের একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং গোপন তথ্য ফাঁসের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, এর আগে ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৩ এ দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও দরপত্র ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ও পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দিতে দরপত্রের সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁস করা হতো।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নিজের পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করেই তিনি পরে ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে গত জুলাইয়ে মিরপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরেও তার নাম আলোচনায় আসে। আন্দোলন দমনে ক্ষমতাসীন দলের কিছু অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে সেই অর্থ লেনদেন হয়েছিল।

এই অভিযোগের জেরে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শেরে বাংলা নগর থানার সামনে বিক্ষোভ করে তার অপসারণ দাবি জানায়। তবে সেই ঘটনার পরও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ও ঠিকাদার মহলে ঘুরে বেড়ানো এসব অভিযোগ এখন তদন্তের দাবি তুলছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা না হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতির এই চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীকে বাঁচাতে একটি চক্র সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

চলবে…..


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category