নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে, সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন স্বৈরাচার সরকারের আমলে গড়ে ওঠা এক বিতর্কিত আমলা—ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)-এর পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) এবং উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের বোন জামাই হওয়ায় ক্ষমতাসীনদের ছায়ায় থেকেছেন তিনি। গত ১৫ বছর ধরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন বেলাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পদে পৌঁছাতে তার যোগ্যতা নয়, বরং ছিল রাজনৈতিক পরিচয় ও তদবিরের জোর।
একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “লাইভস্টক গোডাউনের সবচেয়ে বড় পদ দখল করে কোটি কোটি টাকার লুটপাট করেছেন বেলাল। সেই সময় পুরো মন্ত্রণালয়ই ছিল তার দাপটে কাঁপা।”
ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, জমি এবং টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন তিনি। এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাকরির বিধি ভেঙে কৌশলে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে জানা যায়। বিএসইসি ভবনে তার অবস্থান নিয়ে অনেক কর্মকর্তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, “যিনি স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কিভাবে বহাল তবিয়তে থাকেন?”
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে বেলাল হোসেন বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও তদবির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে এই তৎপরতা চালিয়ে গেছেন। সূত্রটি আরও জানায়, “দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি অনুসন্ধান শুরু করে, তবে বেরিয়ে আসবে সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নামসহ একটি বিশাল দুর্নীতির চিত্র।”
সুশাসনের দাবিতে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা দাবি জানাচ্ছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত অবিলম্বে ড. বেলাল হোসেনের সম্পদের তদন্ত এবং সরকারি পদ থেকে অপসারণ নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বেলাল হোসেন বা সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।