• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি পুরোনো আইন দিয়ে নতুন অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে জোর বিসিসিসিআই’র শহীদ ২ সেনা সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের শতকোটির দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে ড্রাইভার সাখাওয়াতের রাজকীয় অবসর: নেপথ্যে কারা? নীরব ফায়ার সার্ভিস ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত প্ল্যান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক

রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা

Reporter Name / ৪৩৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা মহানগরীর পুরান ঢাকা সব বিভিন্ন স্থানে বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কার্যত অনুপস্থিত। বারবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষত ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও নজরদারিতে বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিগত দিনে সরকারের পক্ষে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মার্কেট ও স্থাপনার তালিকা করেছে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর। তবে তালিকাভুক্ত ঐসব স্থাপনা সসল রয়েছে বহাল তবিয়তে। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় এমন স্থাপনায় নগরবাসীর জীবন সংশয় ঘটতে পারে যেকোন মুহূর্তে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ:
রাজধানীর পুরান ঢাকা, নিউ মার্কেট, গুলিস্তান ও মিরপুর এলাকার অনেক পুরনো মার্কেট ও আবাসিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছাড়াই। ফায়ার সার্ভিসের নীতিমালা অনুযায়ী এসব স্থানে নিয়মিত পরিদর্শন, সতর্কীকরণ চিঠি প্রেরণ এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব কার্যক্রম প্রায় অনুপস্থিত। সূত্র জানাই এসব স্থাপনার সব শিশুদের সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের অর্থ লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা:
অবহেলার কয়েকটি দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য:
✓✓ নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব:
বহু মার্কেট ও ভবনে বছরের পর বছর ফায়ার সার্ভিসের কোনো পরিদর্শক যাননি। ফলে সেসব স্থানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র অকেজো কিংবা নেই বললেই চলে।

✓✓সতর্কীকরণ চিঠির সীমাবদ্ধতা:
যেসব ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে শুধুমাত্র কাগজে কলমে সতর্কীকরণ চিঠি পাঠানো হয়েছে। তালিকা তৈরি করা হয়েছে কিন্তু রহস্যজনক কারণে বাস্তবে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

✓✓জনসচেতনতা কার্যক্রমের ঘাটতি:
অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সাধারণ ব্যবসায়ী, ভবন মালিক ও বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

ফলাফল ও পরিণতি:
বারবার ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেমন—বনানীর এফআর টাওয়ার, চকবাজার ট্র্যাজেডি, বঙ্গবাজার মার্কেটের ভয়াবহ আগুন—এগুলো আমাদেরকে সতর্ক করে দিলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অথবা কঠোরতা দেখা যায়নি। প্রতিটি ঘটনাতেই প্রাণহানি, সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্ধকার বার্তা রয়ে গেছে।

যা করণীয়:
রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের সক্রিয় তদারকি এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পরিদর্শন, রিপোর্টিং, জরিমানাসহ প্রয়োজনে ভবন বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম, অগ্নি নির্বাপণ প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

অন্যথায় বিগত দিনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার মতই প্রতি বছরই আমরা নতুন নতুন অগ্নিকাণ্ডের শিকার হব এবং সেই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না—না ফায়ার সার্ভিসের, না প্রশাসনের, না আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category