• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না তিনি। বরং ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতার প্রভাব ধরে রাখার পথে এগোচ্ছেন ভুচিচ।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ব্রনাবিচ
ভুসিচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন।

ভুসিচ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শেষ দিকের একটি সিদ্ধান্ত ছিল ৪৯ জনকে ক্ষমা করা। তাদের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় সাজা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে এটি সার্বিয়ার সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, সরকারি কাজে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ভুসিচ ও তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দুর্ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচও পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ভুসিচ ক্ষমতায় থেকে যান।

আগামী নির্বাচনে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামে অংশ নিচ্ছে আন্দোলনকারী পক্ষ। তাদের প্রার্থীদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের নির্বাচনি কর্মসূচিতে দুর্নীতির তদন্ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি রয়েছে।

কয়েকটি জনমত জরিপে ছাত্র-সমর্থিত এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সার্বিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী আইদা কোরোভিচের মতে, দেশটির সংকট শুধু ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আশঙ্কা করছেন, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বেলগ্রেডভিত্তিক সম্পাদক ও কলাম লেখক দেজান ইলিচের মতে, আগাম নির্বাচন আয়োজনকে শুধু ভুসিচের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষ্যমতে, জনগণের আন্দোলন ও নির্বাচনের দাবিও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

ভুসিচ অবশ্য বলেছেন, বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ফল মেনে নেবেন এবং সেদিনই তাদের অভিনন্দন জানাবেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category